স্টেবলকয়েন হিসেবে পরিচিত ডলার-সমর্থিত ক্রিপ্টো টোকেন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ মার্কিন ব্যাংক খাত প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার আমানত হারাতে পারে। এটি ডিজিটাল সম্পদ খাত ঘিরে ব্যাংক ও ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে আরো তীব্র করতে পারে। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্যাংক খাতের জায়ান্ট স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। খবর রয়টার্স।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ডিজিটাল অ্যাসেটস রিসার্চ বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান জিওফ কেনড্রিক বলেন, ‘আমানতের স্টেবলকয়েনে রূপান্তরের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যাংকগুলো।’
ব্যাংকগুলোর নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন আয়ের ভিত্তিতে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বাবদ আয় ও আমানতের বিপরীতে যে সুদ দেয় ব্যাংক, এ দুইয়ের পার্থক্য থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের ঝুঁকি উঠে এসেছে।
গবেষণা নোটে জিওফ কেনড্রিক বলেন, ‘মার্কিন ব্যাংকগুলো হুমকির মুখে। কারণ পেমেন্ট নেটওয়ার্কসহ ব্যাংকিংয়ের অন্যান্য মূল কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্টেবলকয়েনের দিকে সরে যাচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর স্টেবলকয়েনের জন্য ফেডারেল নিয়ন্ত্রক কাঠামোসংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছেন, এর ফলে ডলার–পেগড এ ডিজিটাল টোকেনের ব্যবহার আরো বাড়বে।
স্টেবলকয়েনের পক্ষে থাকা অর্থনীতিবিদদের যুক্তি হলো এটি ব্যবহারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ লেনদেন সম্ভব। তবে প্রয়োগিক থেকে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টো টোকেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় স্টেবলকয়েন।
নতুন আইনে স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর সুদ দেয়ার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু ব্যাংকগুলোর অভিযোগ, আইনে ফাঁক রয়ে গেছে, যার সুযোগ নিয়ে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের মতো তৃতীয় পক্ষ টোকেনের থেকে ইল্ড নিতে পারে। এতে আমানত সংগ্রহে নতুন প্রতিযোগিতায় পড়ছে ব্যাংকগুলো।
ব্যাংক খাতের লবিস্টরা বলছেন, কংগ্রেস যদি ফাঁকফোকর বন্ধ না করে তাহলে ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে আমানত হারাবে। আমানতই তহবিলের প্রধান উৎস হওয়ায় ঋণদাতাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, স্টেবলকয়েনের ওপর সুদ নিষিদ্ধ করা হবে প্রতিযোগিতাবিরোধী।
সিনেটে ক্রিপ্টোসংক্রান্ত আইন নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য একটি শুনানি চলতি মাসের শুরুতে স্থগিত হয়েছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ কীভাবে সমাধান করা হবে, তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে মূলত শুনানিটি আপাতত হচ্ছে না।
জিওফ কেনড্রিক বলেন, ‘ইস্যুকারীরা অর্থ কোথায় রাখছেন তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছে স্টেবলকয়েনের কারণে ব্যাংকগুলো কী পরিমাণ আমানত ঝুঁকিতে পড়বে। যদি স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীরা অর্থের বড় অংশ মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যেই রাখে, তাহলে আমানত হারানোর হার কমবে।’
প্রায়োগিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শীর্ষ দুই স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী টেথার ও সার্কেল রিজার্ভের বেশির ভাগই রাখে মার্কিন ট্রেজারিতে।